নাঙ্গলকোটে পিতা হতে মেয়ে ধর্ষণ, ধর্ষক পিতা গ্রেফতার

মো: জাহাঙ্গীর আলম:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বাবা কর্তৃক নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেয়ে বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ফারুক মিয়া (৩৯)কে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে । এমন চাঞ্চলকর ঘটনাটি গত ১২ জানুয়ারী উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের শিহর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ধর্ষক ফারুক মিয়া (৩৯) এ ঘটনা ঘটায়। লিখিত অভিযোগে মেয়েটি জানান, আমি ১০ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করি। গত ৭ জানুয়ারি আমার নানার বাড়ীতে বেড়াতে যাই। নানার বাড়িতে বেড়ানো অবস্থায় আমার বাবা রাত সাড়ে ৮টায় আমার নানার বাড়িতে আসে। আমাকে এবং নানীসহ মামাকে জানান যে, আমার বিবাহের কথাবার্তা ঠিক হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি দুপুরে আমাকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে, এখন তুমি আমার সাথে বাড়িতে চল। তখন আমি আমার জামা কাপড়ের ব্যাগ গুছিয়ে আমার বাবার সাথে রাত্র সোয়া ৯টায় ব্যাটারি চালিত(অটোরিক্সা) যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। পরে তিনি আমাকে বাঙ্গড্ডা বাজারে নিয়ে আসিয়া আমাকে ৩-তলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং এ উঠায় এবং ৩য় তলায় উত্তর পাশের রুমে বসাইয়া রাখে। আমাকে রুমে রেখে দরজা লাগিয়ে তিনি বাহিরে চলে যায়, অনুমান ১৫ মিনিট পর পান, চিপস ও আমার জন্য দুইটি থ্রি পিস নিয়ে আসে এবং থ্রি-পিস দুইটি আমার হাতে দিয়ে বলে এগুলো পছন্দ হয়েছে কিনা দেখ, আমি থ্রি-পিস পছন্দ হয়েছে কিনা দেখার মধ্যে ব্যস্ত থাকায় ঘটনার রাত্র পৌনে ১১ টায় বাবা আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি শোর চিৎকার করিতে চাইলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমাকে সে রুমের ভিতরে রাখিয়া পরের দিন সকাল অনুমান ৭ টা পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করে। সকাল ৮ টার সময় অটোরিক্সাযোগে বিবাদী আমাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন এবং গাড়ির মধ্যে বসে আমার হাত তার মাথায় দিয়ে কসম কেটে বলে এ ঘটনার কথা কারো কাছে বলবি না এবং তোর মাকেও বলবি না, যদি কারো কাছে বল, তাহলে তোকে ও তোর মাকে ”দা” দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলবো। বাড়ীতে যাওয়ার পর বিবাদীর হুমকির কারনে আমি চিন্তামগ্ন থাকার কারনে আমার মাতা আমাকে সব সময় চিন্তাযুক্ত দেখে এর কারণ জানতে চায়। আমি আমার মায়ের কাছে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বলি। আমার মা বিবাদীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তাদের মধ্যে প্রচুর ঝগড়া হয়। আমার মা বিবাদীর সাথে রাগ করে এবং আমি ও আমার মা নানার বাড়িতে চলে যাই। নানার বাড়ি থেকে আমার মামা ও নানী আমার বাবার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কিন্তু বাবা ঘটনার বিষয়ে কোন কর্নপাত করে না। আমার বাবা একজন অসৎ চরিত্রের লোক। তিনি আমার মাতা সহ আরো ২টি বিবাহ করেছে। আমার পিতা হয়ে আমাকে ধর্ষণ করায় আমি তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রার্থনা করিতেছি। আত্মীয় স্বজনের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ভ হয়। গতকাল রাতে ধর্ষিতা মেয়েটির বাবা ধর্ষক ফারুক মিয়া কে আটক করে নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ। এদিকে এলাকাবাসী বলেন, ধর্ষক ফারুক মিয়া আগে থেকে এলাকায় মাদক, ইভটিজিং এর সাথে জড়িত। আমরা এ ঘটনায় ধর্ষক এর ফাঁসি চাই।

প্রকাশনায় :-

মো: জাহাঙ্গীর আলম

যোগাযোগ:ফোন নাম্বার-০১৭১৭৩৭৮৪৮০ ইমেল:-jahangirnews1@gmail.com-dailynangalkot@gmail.com