ধর্ষণ ঘটনায় ধামাচাপা দিতে নাঙ্গলকোটে গ্রাম্য সালিশদারদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

মো: জাহাঙ্গীর আলম:-

মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করে ধর্ষণ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নাঙ্গলকোটের গ্রাম্য সালিশদারদের বিরুদ্ধে।
ধর্ষিতা কিশোরীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন শিহর গ্রামের শিপন মেম্বার, ইউসুফ, ডাক্তার নজির আহমদ, নুরুন্নবী ড্রাইভার, হানিফ ও শফিকের বিরুদ্ধে সেই কিশোরী সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, পিতা কর্তৃক ধর্ষিতা হলে এলাকায় জানাজানি হয় এবং উপরে উল্লেখিত সালিশদারগণ ডাক্তার নজির আমাদের বাড়িতে সালিশ বসিয়ে তার মাকে ডেকে নেয় এবং ওই মেয়েকে তার বাবার সাথে বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
সালিশদারদের মধ্যে শফিক ও ইউসুফ এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ধর্ষিতার মায়ের নিকট বড় অঙ্কের ঘুষ দাবি করে। তারা দাবিকৃত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নাই বলে জানায়। টাকা না দিলে তার বাবার সাথে তাকে বিবাহ দেওয়ার হুমকি দিলে শেষ পর্যন্ত শফিক ও ইউসুফের হাতে তারা ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়।

এই টাকা দেওয়ার পরও তাদের উপরে এলাকা ছাড়াসহ বিভিন্ন হুমকি আসতে থাকে।নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত ধর্ষিতা কিশোরী ২জুলাই তারিখ নাঙ্গলকোট থানায় এসে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মেয়ে বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ফারুক মিয়া (৩৯)কে ২ জুলাই শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে । এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি গত ১২ জানুয়ারী উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের শিহর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ধর্ষক ফারুক মিয়া (৩৯) এ ঘটনা ঘটায়।

থানায় লিখিত অভিযোগে মেয়েটি জানান, আমি ১০ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করি। গত ৭ জানুয়ারি আমার নানার বাড়ীতে বেড়াতে যাই। নানার বাড়িতে বেড়ানো অবস্থায় আমার বাবা রাত সাড়ে ৮টায় আমার নানার বাড়িতে আসে। আমাকে এবং নানীসহ মামাকে জানান যে, আমার বিবাহের কথাবার্তা ঠিক হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি দুপুরে আমাকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে, এখন তুমি আমার সাথে বাড়িতে চল। তখন আমি আমার জামা কাপড়ের ব্যাগ গুছিয়ে আমার বাবার সাথে রাত সোয়া ৯টায় ব্যাটারি চালিত(অটোরিক্সা) যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। পরে তিনি আমাকে বাঙ্গড্ডা বাজারে নিয়ে আসিয়া আমাকে ৩য় তলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং এ উঠায় এবং ৩য় তলায় উত্তর পাশের রুমে বসাইয়া রাখে। আমাকে রুমে রেখে দরজা লাগিয়ে তিনি বাহিরে চলে যায়, অনুমান ১৫ মিনিট পর পান, চিপস ও আমার জন্য দুইটি থ্রি পিস নিয়ে আসে এবং থ্রি-পিস দুইটি আমার হাতে দিয়ে বলে এগুলো পছন্দ হয়েছে কিনা দেখ, আমি থ্রি-পিস পছন্দ হয়েছে কিনা দেখার মধ্যে ব্যস্ত থাকায় ঘটনার রাত্র পৌনে ১১ টায় বাবা আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি শোর চিৎকার করিতে চাইলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমাকে সে রুমের ভিতরে রাখিয়া পরের দিন সকাল অনুমান ৭ টা পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করে।
সকাল ৮ টার সময় অটোরিক্সাযোগে বিবাদী আমাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন এবং গাড়ির মধ্যে বসে আমার হাত তার মাথায় দিয়ে কসম কেটে বলে এ ঘটনার কথা কারো কাছে বলবি না এবং তোর মাকেও বলবি না, যদি কারো কাছে বল, তাহলে তোকে ও তোর মাকে ”দা” দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলবো। বাড়ীতে যাওয়ার পর বিবাদীর হুমকির কারনে আমি চিন্তামগ্ন থাকার কারনে আমার মাতা আমাকে সব সময় চিন্তাযুক্ত দেখে এর কারণ জানতে চায়। আমি আমার মায়ের কাছে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বলি। আমার মা বিবাদীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তাদের মধ্যে প্রচুর ঝগড়া হয়। আমার মা বিবাদীর সাথে রাগ করে এবং আমি ও আমার মা নানার বাড়িতে চলে যাই। নানার বাড়ি থেকে আমার মামা ও নানী আমার বাবার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কিন্তু বাবা ঘটনার বিষয়ে কোন কর্নপাত করে না।
আমার বাবা একজন অসৎ চরিত্রের লোক। তিনি আমার মাতা সহ আরো ২টি বিবাহ করেছে। আমার পিতা হয়ে আমাকে ধর্ষণ করায় আমি তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রার্থনা করিতেছি। আত্মীয় স্বজন ও এলাকার শালিসদারদের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ভ হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর ধর্ষিত মেয়েটির বাবা ধর্ষক ফারুক মিয়াকে আটক করে নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ।
এদিকে এলাকাবাসী বলেন, ধর্ষক ফারুক মিয়া আগে থেকে এলাকায় মাদক, ইভটিজিং এর সাথে জড়িত। আমরা এ ঘটনায় ধর্ষক এর ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম্য সালিশদার শিপন মেম্বার, সফিক ও ইউসুফ এর নিকট সালিশ করা ও ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাহিলে তারা তা অস্বীকার করে।

প্রকাশনায় :-

মো: জাহাঙ্গীর আলম

যোগাযোগ:ফোন নাম্বার-০১৭১৭৩৭৮৪৮০ ইমেল:-jahangirnews1@gmail.com-dailynangalkot@gmail.com